ক্রিং ক্রিং ক্রিং..
সকাল সকাল ফোনটা বেজে চলেছে.
বিজয় ঘুমাচ্ছিলো..
ফোনটা বেজেই যাচ্ছে..
- হ্যালো , কে..
...
ঘুম ঘুম কন্ঠে বিজয় ফোনটা পিক করলো..
ঘুমের কারনে ,
কে ফোন করলো.. সেটাও দেখলো না..
**
- কে মানে ? এক রাতেই ভূলে গেছো ?
**
বিজয়ের এমন প্রশ্নে অফর প্রান্তে , নুসরাতও রেগে গেলো..
**
- ওহ তুমি , হুম বলো (বিজয় তখনো ঘুমে বিভোর)
- চিনতে পারছেন স্যার ?
- হুম চিনছি তো..
- এতোবার ফোন দিতে হইছে ক্যানো ?
- ঘুমাচ্ছিলাম যে , খোজ পাইনি..
- এখনো ঘুমাচ্ছো ? কয়টা বাজে দেখছো ? কখন ঘুমাইছো ?
- কয়টা বাজে ?
- ১২ টা..
- মাত্র ?
- মাত্র মানে , কতগুলা ফোন দিছি তোমাকে দেখছো ?
- হুম , ৩ টা..
- কাল রাতে কি বলছিলা ? কি কথা ছিলো ? (নুসরাতের মুড চরমে)
- কি কথা ছিলো ?
- জানি না.. ওকে , রাখলাম..
তুমি ঘুমাও..
টু টু করে ফোনটা কেটে গেলো..
***
বিজয় একটা কফিশফেই বসে আছে..
নুসরাতকে রাগানোর জন্যই বিজয় এমন করলো...
**
নুসরাত তখনো জানে না যে , একই কফিশফে বিজয়ও বসে আছে..
পাগলটা আজ তার সাথে এমন করলো ক্যান ?
সেটা ভেবেই নুসরাতের চোখের কোনে কয়েকফোটা অশ্রুর দেখা মিললো...
বিজয়টা এমন ই ,
প্রায় ই এমন মজা করে....
*
তাই বলে আজও এমন করবে ?
আজ তো নুসরাতে জন্মদিন ..
প্রতিবার এই কফিশফেই ওরা জন্মদিন সেলিব্রেট করে..
রিলেশনের ৪ টি বছর পেরিয়ে ,
আজও কথা ছিলো ,
এই কফিশফেই পালন করবে ,
নুসরাত তো ঠিক টাইমেই চলে এসেছে..
বিজয়টা আসেইনি , বরং ঘুমের অজুহাত দেখালো...
****
হেপী বার্থডে টু ইউ
নুসরাত...
হঠাৎ বেজে উঠলো..
নুসরাতও চমকে গেলো...
কিছু বুঝে উঠার আগেই
ক্যাফে এর চারদিকে
শুভ জন্মদিন লেখা
লাইট জ্বলে উঠতে লাগলো...
..
এগুলো কি হচ্ছে??
কিছুই বুঝতে পারছে না
নুসরাত...
**
- এগুলো আপনার জন্য...
পিছন থেকে কেউ বলে উঠলো..
অবাক নুসরাত
দ্রুত পিছনে তাকিয়ে দেখলো
দুইজন অয়েটার দাঁড়িয়ে আছে
কতগুলো লাল গোলাপ নিয়ে...
- কে দিছে?
**
থতমত খেয়ে নুসরাত এর অসহায়
জিজ্ঞাসা...
- ওই যে, অই ভাইয়্যা..
- কোন ভাইয়্যা...
- এই যে, আপনার সামনে বসে আছে...
এবার নুসরাত ওয়েটার এর দিক থেকে
মুখ সরিয়ে সমানের দিকে তাকালো...
সামনেই বিজয় বসে আছে...
- তুমি???? (অবাক নুসরাত)
- কি মনে হয়??
- তুমি না ঘুমাচ্ছো..
- হুম ঘুমাইছিলাম ই তো.
- তাহলে এখানে ক্যান?? ( একটু আগে বিজয়ের উপর ঊঠা সব রাগ যেনো নিমিষেই ভুলে গেলো নুসরাত)
- কোথায় থাকার কথা??
- জানি না... ফোনের এমন করলা ক্যান??
- তোমার রাগ দেখবো বলে?
- মানে, তুমি কি এই কফিশফেই ছিলা??
- হুম, আমার নুসরাতের জন্মদিন আর আমি থাকবো না??
- তারমানে, ফোনে তুমি আমার সাথে ফাইজলামি করছো? (রেগে নুসরাত উঠে দাড়ালো, যেনো বিজয় কে মেরেই দিবে)
- ম্যাডাম, আস্তে পিছনে কেউ আছে..
***
এতক্ষনে নুসরাতের মনে পড়লো, পিছনে ২ জন ওয়েটার দাঁড়িয়ে ফুল নিয়ে...
- আগে অগুলো নিয়ে নাও...
...
ওয়েটার এর কাছ থেকে ফুলগুলো নিয়ে নিলো নুসরাত...
- এতো কিছুর মানে কি??
- কিসের??
- এই যে, কফিশপে.. এসব কি??
- নতুন তো কিছু না..
- এতো পাগলামি করো ক্যানো??
- না করলে ভালো লাগে না...
- কতদিন করবা?
- তোমার প্রত্যেকটা জন্মদিনে...
***
এই পাগলামি গুলো নুসরাতের কাছে পুরোনো হয়ে গেছে..
তবু ক্যানো জানি, পাগলটা এমন পাগলামি না করলে,
ওর ও ভালো লাগে না..
***
- আমাকে এভাবে কষ্ট দাও ক্যানো??
- কই?
- ওই যে, ফোনে কেমন করলা?
- তোমাকে রাগাতে চাইছিলাম...
- আমাকে কষ্ট দিয়ে??
- স্যরি...
- ফোনে তোমার কথা শুনে, খুব খারাপ লাগছিলো..
তুমি আসবা না, মনে নেই, ঘুমাচ্ছিলা...
- আরে পাগলী তোমার জন্মদিন আর আমি আসবো না, তা কি হয় ??
- প্রত্যেকবার ই এমন করো ক্যান?
**
- জানোই তো , আমি এমন ই..
- হুম সেটা তো জানি ই..
- ওকে , নেক্সট টাইম থেকে আর এমন করবো না..
- গত ৪ টা জন্মদিনে এই তো এটা বলে আসছো..
- এবার ই শেষ..
- না , তুমি বারবার এমন করবা..
- তুমি তো রাগ করো..
- তাও করবা..
- ক্যান ?
- আমার বিজয়কে তো চিনতে হবে... এমন না করলে পাগলটাকে চিনবো কি ভাবে ?
***
সত্যিই পাগলীর রাগের মধ্যেই যেনো অকৃত্তিম ভালোবাসাটা লুকিয়ে আছে...
সেই ভালোবাসাটেই আকড়ে ধরে আছে বিজয় ,
নুসরাতের ভালোবাসার কাছে ,
বিজয়ের সব কিছুই হার মেনে যায়..
পাগলীটাকে ভালোবেসেই যেনো ,
বাকীটা জীবন কাটিয়ে দিতে চায়.
বিজয়..

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
HELLO! VISITOR